ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের ষষ্ঠ দিন গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের ষষ্ঠ দিন গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। এর আগে মঙ্গলবার দামের বড় উল্লম্ফনের পর বিনিয়োগকারীরা সরবরাহ বিঘ্নের সম্ভাবনা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে হিসাবনিকাশ শুরু করেন। বাজার সংশ্লিষ্টদের এ সতর্ক অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে দাম কমেছে পণ্যটির। খবর রয়টার্স।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলপ্রতি ৯৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৭৫ দশমিক ৫২ ডলারে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৮৮ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ৯৬ ডলারে। এর আগে মঙ্গলবার জ্বালানি তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়েছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে। তিনি ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দাবি করেন।

ট্রাম্প জানান, ‌এ মুহূর্তে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনা নেই তাদের। তবে তার বক্তব্য থেকে ইরানের প্রতি কঠোর মনোভাব স্পষ্ট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এ সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনাগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান আইএনজির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় ভয় হলো হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া। বিশ্ববাজারে সমুদ্রপথে সরবরাহ হওয়া মোট জ্বালানি তেলের এক-তৃতীয়াংশ এ পথ দিয়ে যায়। এ পথের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছতে পারে।

ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইরান তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করে। গতকাল জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরাইনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে জড়ায়, তাহলে ইরান এর ‘কঠোর জবাব’ দেবে।

এদিকে বিনিয়োগকারীরা নজর রাখছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) দুদিনের বৈঠকের ওপর। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নীতিগত সুদহার ৪ দশমিক ২৫ থেকে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশের মধ্যেই রাখবে। তবে চলমান সংঘাত ও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কায় ব্যাংকটি জুলাইয়ে সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমাতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর।

সাধারণত সুদহার কমলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ে। ফলে জ্বালানি তেলের চাহিদাও বাড়ে। তবে জ্বালানি তেল সংকট ও উচ্চ দামের কারণে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে, যা ফেডের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ কমেছে ১ কোটি ১ লাখ ব্যারেল। এ তথ্য জানিয়েছে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট।

আরও